আজ ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার,২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ফেনীর স্বপ্নবাজ এক তরুণ নারী উদ্যোক্তা সানিয়ার স্বপ্নকথন।

Share

স্টাফ রিপোর্টার:

 

এক স্বপ্নবাজের স্বপ্ন শেয়ার করেছেন চ্যানেল ফেনীর সাথে।

সানিয়া ই জাহান পড়াশোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের একজন ছাত্রী।ছোট বেলা থেকে পারিবারিক বিজনেস থাকার কারণে মায়ের উৎসাহে নিজেকে  গড়ার পাশাপাশি বিজনেস করার স্বপ্ন দেখতো কিন্তুু সেই ব্যবসায় হবে মানুষের ক্যালণে।তিনি যা বলেন, আমি স্বপ্ন  দেখি দেশের অন্যতম একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার।

আমি স্বপ্ন দেখি পথশিশুদের নিয়ে। ‘বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’ চিরসত্য কথাটি যাদের বেলায় খাটে না, মায়ের স্নেহ কী, তাদের অনেকেই জানে না। অনেকের বাবা-মাও নেই। কারও কারও হয়তো থেকেও নেই। অবহেলা শব্দটি ওদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে সময় ওদের হাতে বই থাকার কথা, তখন খাদ্যের সন্ধানে ওদের কাটে কাগজ কুড়িয়ে অথবা বোঝা টেনে। কেউ বা আবার খারাপ লোকের দ্বারা চালিত হয়ে ভুল পথে পা বাড়ায়। এই পথশিশুদের জন্য কাজের ফাঁকে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা দরকার। গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে ওদের জন্য আনতে হবে কার্যকর পদ্ধতি। যার দ্বারা শিশুরা স্কুলবিমুখ না হয়ে স্কুলগামী হয়। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে নৈতিক শিক্ষার। তাদের শেখাতে হবে স্বপ্ন দেখতে। সেই শিশুদের স্বপ্ন দেখাতেই আমি কাজ করতে চাই। আমি জানি এ পথে সাফল্য এত সহজ নয়। তবে অসম্ভবও নয়। সঙ্গে চাই, কিছু মানবতাবাদী।

স্বপ্ন দেখি দেশকে নিয়ে, দেশের মানুষকে নিয়ে। বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখি। নিশ্চয় সেদিন খুব দূরে নয়, পুরুষেরাও নারীর প্রতি অনেক সহমর্মী হবে। সমাজে নারী-পুরুষের ব্যবধান শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। মা-বাবা বুঝতে পারবেন, ছেলেমেয়ে দুজনই তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মেয়েরা এখন আর পিছিয়ে নেই। জ্ঞান, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যে তাঁরা পুরুষের সঙ্গে সমান কাতারে অংশগ্রহণ করছেন। আমি পড়ছি ব্যাচলার নিয়ে। স্বপ্ন দেখি, ক্যামেরন হ্যারলডের মতো খ্যাতিমান উদ্যোক্তা হওয়ার। করতে চাই মার্ক জুকারবার্গের মতো সৃষ্টিশীল কিছু। ইচ্ছা আছে সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। স্বপ্ন দেখি এমন কিছু করার, যাতে অন্য দেশের মানুষ বলে, ওই যে, ওই সফল মেয়েটা তো বাংলাদেশের! প্রতিটি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই আল্লাহ সেই ইচ্ছে পূরণ করুন। করোনায় বসে অর্থনৈতিক ভাবে,মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি। তাই অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা,মানসিক প্রশান্তির জন্য একটা উদ্যোগ নেয়া খুব জরুরী ছিল

বেবি ড্রেস সেল নিয়ে আপনার ভাবনা: আমার আম্মু ইউনিক ড্রেস আমাদের পরাতে ভালোবাসতো।ঠিক তেমন করে প্রতিটি বাচ্চার জন্য ইউনিক ড্রেস ও সুলভ মূল্যই ভালো ড্রেস তৈরি করা।যেইটাতে প্রতিটি বাচ্চা স্বস্তিবোধ করে।প্রতিটি মানুষের কাছে ভালো পণ্য পৌঁছানো

ফেনীতে পরিচিতি: ফেনীতে পরিচিত অনেক ছোটবেলা থেকে সংস্কৃতিক ও সামাজিক কাজে জড়িত ছিলাম।

পড়াশোনা: ড্রেস মেকিং নিয়ে দুই বছর করছে তাই ড্রেস সম্পর্কে ধারণা থেকেমবেবি ড্রেস তৈরি করা শুরু করে।বাচ্চাদের প্রতি দুর্বলতা থেকে ওদের নিয়ে কিছু করার প্রচেষ্টা

অনুপ্রেরণা: প্রথম অনুপ্রেরণা আমার আম্মু তারপরের উইয়ের রাজীব স্যার এবং নিশা আপু । উনাদের কথায়ে উদোগ্যতা হওয়ার আত্ম বিশ্বাস লাভ করি।

পুঁজি: ২০০ টাকা দিয়ে শুরু হিসাব করলো হইতো লাখের কাছাকাছি  যেতো ২০১১থেকে শুরু করলো ও অনলাইনে শুরু করে ২ মাস হলো তাই অফ লাইন ও অনলাইন মিলে আশানূরূপ লাভের মুখ দেখেছি

খরচ:বিজনেস থেকে লাভকৃত অর্থ  করোনা মূহুর্তে গরীব ও অসহায় পরিবারকে বিলিয়ে দিছে।

পারিবারিক সাপোর্ট:    বিজনেসের শুরু থেকে আম্মু সাপোর্ট করেছে পাশাপাশি  ভাই ও বোন। আত্মীয় স্বজন বিজনেস করছি জানার পর সাপোর্ট দিচ্ছে

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: ভালো পণ্যটা সবার কাছে পৌঁছানো।আমি বাচ্চাদের ড্রেস নিয়ে কাজ করছি  তাই কাপড়,  রং সব কিছু বিবেচনা করে পোশাক তৈরি করতে হয়ে।আমার উদ্দেশ্য সুলভ মূল্যই ভালো পণ্য পৌঁছানো।অনলাইন ব্যবসায় ও দেশীয় পণ্যর প্রতি অস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যই কাজ করে যাচ্ছি।

ভবিষ্যৎ ভাবনা:  ব্যবসা করে গরীব ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িনো।ফেনীবাসীর উপকার করা সেইটা ব্যবসায় বা যেকোন কাজে।

দুঃসময়: করোনার সময়েটা দুঃসময়।আশে পাশের গরীব দুঃখী মানুষের কষ্ট। ব্যবসা বন্ধ নিজের কাছে নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছে তারপর ও বসে থাকি হয়ে নাই অনেক পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করেছি।নিজের পোশাকের টাকা দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category